RMG

পোশাক কারখানা খোলায় খুশি মালিকেরা, কিন্ত শ্রমিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ইন্ডাস্ট্রি
১ আগস্ট (রোববার) থেকে পোশাক কারখানাসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট (রোববার) সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প-কারখানা বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখা হলো।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত দেশের রফতানিখাতসহ সব উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়ার দাবি জানায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসান, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআই’র সাবেক সহসভাপতি ও বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ওই বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, কভিডজনিত বিধি-নিষেধের আওতায় সকল প্রকার শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আগামীতে পণ্য-সামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মত পরবর্তী রপ্তানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে রপ্তানিমুখি শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ায় শিল্প মালিকেরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট ধন্যবাদ জানান। স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএ সদস্য মোঃ সালাউদ্দীন চৌধুরী বলেন, “অবশেষে ১ আগষ্ট রবিবার থেকে রপ্তানিমুখী সকল শিল্প কারখানা খোলার অনুমতি দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে।”

অপর দিকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে শ্রমিকদের মধ্যে। একজন শ্রমিক জানান, ”আমরা যারা ঢাকার বাহিরে আছি, আমরা কিভাবে কারখানাতে আসব। এদিকে গণপরিবহনও বন্ধ। এরকম হুটহাট সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের ভোগান্তিতে ফেলা।” আরেক জন শ্রমিক জানান, ”রপ্তানিমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠান আগামী ১ তারিখ থেকে খুলবে, সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা,কর্মচারী, শ্রমিক কর্মস্থলে আসবে কি ভাবে তার ঘোষণা জরুরি দরকার।“

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। বিধিনিষেধ চলাকালে দেশের সব শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের পর থেকেই কারখানা খোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার সিদ্ধান্ত নিলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বসন টিভি নিউজ/ঢাকা পোস্ট/রপ্তানিমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন